বাংলাদেশে ফায়ার লাইসেন্স হলো এমন একটি অনুমোদনপত্র যা নিশ্চিত করে যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় অগ্নি-নিরাপত্তার ন্যূনতম মান বজায় রাখা হয়েছে।
কোন কোন ব্যবসার জন্য ফায়ার লাইসেন্স প্রয়োজন?
সাধারণত যেসব ব্যবসা বা স্থাপনায় অগ্নি-ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বা যেখানে অনেক মানুষ একসঙ্গে অবস্থান করে, সেখানে ফায়ার লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। যেমন—
শিল্প কারখানা (Factory)
গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল
গুদাম (Warehouse)
কোল্ড স্টোরেজ
শপিং মল ও সুপারশপ
বহুতল বাণিজ্যিক ভবন
আবাসিক হোটেল
রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড
হাসপাতাল ও ক্লিনিক
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়
সিনেমা হল, কমিউনিটি সেন্টার
LPG প্ল্যান্ট
CNG স্টেশন
পেট্রোল পাম্প
কেমিক্যাল ও প্লাস্টিক কারখানা
ওষুধ কারখানা
ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কারখানা
বড় অফিস ভবন ও আইটি পার্ক
প্রতিষ্ঠানের ধরন, আকার এবং ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স বা অন্যান্য অগ্নি-নিরাপত্তা অনুমোদনের প্রয়োজন নির্ধারণ করে।
আবেদন করার আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে?
প্রতিষ্ঠানে সাধারণত নিম্নোক্ত অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে হয়—
Fire Extinguisher
Fire Alarm System
Emergency Exit
Exit Sign
Emergency Lighting
পর্যাপ্ত সিঁড়ি
Smoke Detector (যেখানে প্রয়োজন)
Fire Hydrant/Hose Reel (যেখানে প্রযোজ্য)
বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা
অগ্নি নিরাপত্তা নির্দেশিকা
ফায়ার সার্ভিস পরিদর্শনের সময় এসব বিষয় যাচাই করে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সাধারণভাবে প্রয়োজন হতে পারে—
আবেদনপত্র
ট্রেড লাইসেন্স
NID
TIN
BIN (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
কোম্পানির Incorporation Certificate (কোম্পানি হলে)
Memorandum & Articles of Association (কোম্পানি হলে)
ভাড়ার চুক্তিপত্র বা মালিকানার দলিল
ব্যাংক সলভেন্সি (যেখানে প্রয়োজন)
রাজউক/সিটি কর্পোরেশন অনুমোদিত ভবনের লেআউট প্ল্যান
হোল্ডিং ট্যাক্স/Valuation Certificate
অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
প্রতিষ্ঠানের ধরন, নথিপত্রের সম্পূর্ণতা এবং পরিদর্শনের ওপর নির্ভর করে সময় ভিন্ন হতে পারে। যদি কোনো ত্রুটি না থাকে, তাহলে পরিদর্শন ও অনুমোদন শেষে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। ফায়ার লাইসেন্স নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নবায়ন করতে হয়। বর্তমানে নতুন ই-ফায়ার লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে নবায়নও অনলাইনে আনা হচ্ছে।
আবেদন লিঙ্ক - https://elicense.fireservice.gov.bd/?utm_source